ইসলামের সাধারণ আকিদাহ

 

Photo by Tayeb MEZAHDIA from Pexels


بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ۝

ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ۝

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝

وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ۝

শুরু করছি পরম দয়ালু এবং অসীম দয়াবান আল্লাহ্ নামে। 

বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,

আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,

তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি

এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

                        -আল কুরআন, সূরা ইখলাস, আয়াতঃ - 

 

সকল প্রসংসা সেই পরাক্রমশালী রবের, যাঁর হাতে আমার জীবন মরণ। আমরা সৃষ্টি হিসেবে মানুষ। ধর্মের দিক দিয়ে কেউ মুসলিম, কেউ হিন্দু, কেউ খ্রিস্টান, কেউ বৌদ্ধ। তাছাড়াও আছে আরও বহু ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস করি যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা এক আল্লাহ, আমাদের প্রভু, আমাদের মালিক, আমাদের পালনকর্তা এবং সবকিছুর একমাত্র মালিক ইবাদতের একমাত্র হকদার হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়লা। তাছাড়াও আকিদার আরও বহু ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলো আমার আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। আমার আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আল্লাহ্ ওপর আমাদের আকিদা নিয়ে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়লার ঘোষণা অনুযায়ী কেবল সেই মুসলিম হতে পারবে যে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক বা অংশীদার নেই, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। এই ব্যাপারটা আল্লাহ সুবহানাহু তায়লা খুব সুন্দর করে স্পষ্টভাবে কুরআনে উল্লেখ করে দিয়েছেন। একটা সম্পূর্ণ সূরা নাজিল করে দিয়েছেন আল্লাহ শুধু তাঁর পরিচয় দিয়ে। সেটা হচ্ছে আল কুরআনের ছোট্ট একটা সূরা, সূরাতুল আল ইখলাস। তো কুরআন হচ্ছে আল্লাহ্সুবহানাহু তায়লার পবিত্র কালাম এবং ইসলামের সর্বোচ্চ গাইড বই। সমগ্র কুরআনের শুধু একটা মাত্র আয়াতেও যদি আপনি-আমি সন্দেহ প্রকাশ করি তাহলে তৎক্ষণাৎ আমরা ইসলাম থেকে খারিজ বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব। কথাটা আমার নয়, কথাটা সমগ্র জাহানের মালিক আল্লাহ্সুবহানাহু তায়লার। অর্থাৎ আল্লাহ্কে বিশ্বাস করা যেমন আকিদার মূল শর্ত, তেমনি আল্লাহ্ কুরআনকে বিশ্বাস করাও আকিদার মূল শর্তাবলির একটা। কারণ এই মহাপবিত্র কুরআনের মাধ্যমেই আল্লাহ্তায়লা আমাদের  সামনে তাঁর পরিচয় তুলে ধরেছেন। এই কুর’আনের বাণী প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ্‌ তা'য়লা আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহকে (আল্লাহ্‌ তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত করুন) দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।

 

এবার পরবর্তী কথায় আসা যাক। পবিত্র কুরআন থেকে আমরা জানতে পারলাম যে আল্লাহ্ কোনো শরীক নেই, তাঁর কোনো সন্তান নেই, তাঁর কোনো বাবা-মা নেই। এবং মুসলমান হিসেবে আমরা এর বাইরের যেকোনো শিরকী আকিদা থেকে আল্লাহ্ কাছে পানাহ চাই। এখন ইসলাম ছাড়া অন্যান্য একেক ধর্মের একেক আকিদা। আমাদের তাওহীদি (তাওহীদ মানে আল্লাহ্ একত্ববাদে বিশ্বাস) আকিদার বাইরে যদি আমরা অন্য যেকোনো বিশ্বাস মিক্স করি তাহলে কিন্তু আমরা আর আল্লাহ্ একত্ববাদে বিশ্বাসী রইলাম না। শুধু তা না, যারা একত্ববাদে বিশ্বাস করেনা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আনন্দ ভাগ করে নেয়া এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করাও আল্লাহ্ একত্ববাদে বিশ্বাসের পরিপন্থী। উদাহরণ দেয়া যাক। আজকে যেমন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মোৎসব বড়দিন। তো তাদের বিশ্বাস হচ্ছে জেসাস ক্রাইস্ট (হযরত ঈসা (আল্লাহ্‌ তাঁর ওপর শান্তি বর্ষণ করুন)) হচ্ছেন আল্লাহ্‌র পুত্র (নাঊজুবিল্লাহ)। আর আমাদের আকিদা হচ্ছে হযরত ঈসা (আল্লাহ্‌ তাঁর ওপর শান্তি বর্ষণ করুন) আল্লাহ্‌র একজন নবী ও রাসূল। এখানে দেখা যাচ্ছে যে তাদের বিশ্বাসটাই আমাদের বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সূরা ইখলাসে মহান আল্লাহ্‌ নিজের যেই পরিচয় দিয়েছেন তার সম্পূর্ন বিপরীত আকিদা বহন করছে খ্রিস্টান ধর্মের ভাইয়েরা। আর তাদের ধর্মের উৎসবে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমরা কিন্তু তাদেরই ধর্মবিশ্বাসের সাথে একমত পোষণ করছি। প্রিয় মুসলিম ভাই, আপনি যদি এই ব্যাপারটা থেকে বের হতে না পারেন, তবে মনে রাখবেন, আপনার ধর্ম বিশ্বাসও কিন্তু পরিবর্তন হয়ে গেল।

 

এখন আপনি হয়ত গায়ের জোরে বা অজ্ঞানতার কারণে আমার সাথে তর্ক করতে পারেন। বলতে পারেন যে “দুইদিনের মুসলমান আইসে আমাগোরে ইসলাম শিখাইতে”। আপনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন, তবে আমি আপনি মুসলিম হওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হচ্ছে পবিত্র কুর’আন এবং সেটার ব্যাখ্যা হিসেবে রাসূলের (আল্লাহ্‌ তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত করুন) হাদিস। আপনি এর বাইরে যেয়ে নফসের ধোঁকায় যেকোন ধরণের মনগড়া কথাই বানান সেটাতে লাভ নেই। আমার দাওয়াত পৌঁছে দেয়া দরকার আমি দিলাম। মানবেন কি না মানবেন সেটা আপনার ইচ্ছা।

 

 

আরেকটা কথা, অন্য ধর্মের উৎসবে শুভেচ্ছা জানাব না মানে এই না যে আমরা তাদের সাথে শত্রুতা করতে যাব, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াব, তাদের সাথে সহাবস্থান করব না। এটা যেহেতু সবারই দেশ, নাগরিক হিসেবে, সামাজিকতার বিচারে এখানে সবারই নাগরিক অধিকার সমান। সো অন্যান্য দুনিয়াবি ব্যাপারে বা সামাজিকতায় আমরা সবাই মিলে মিশেই চলব, কিন্তু সেই সামাজিকতার দোহাই দিয়ে আপনি যদি “খুল” হতে গিয়ে আপনার ধর্ম বিসর্জন দেন তাহলে সে দায় সম্পূর্ণই আপনার। কিন্তু আপনার খায়েশ পূরণেরর পর আপনার মনমত ইসলামের দেয়া সীমা পরিবর্তন করার অধিকার এবং ইসলামের সীমার বাইরে গিয়ে নিজেকে মুসলিম দাবি করার অধিকার নেই। আল্লাহ্‌ আমাদের বুঝ দান করুন, আমিসহ সবাইকে হেদায়াত দান করুন। আমিন।

 

Post a Comment

0 Comments