আমাদের কী করার কথা ছিলো, আমরা কী করছি?

Photo by Tima Miroshnichenko from Pexels




"মানুষ কি মনে করে তাঁকে এমনি এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে"?

 

সূরা কিয়ামাহ'র এই আয়াতটা পড়লে আমার খুব ভয় হয়। বিজ্ঞ মুফাসসিরগণ এই আয়াতের ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন। তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের এই আয়াতের সরাসরি অর্থ থেকেও অনেক কিছু বুঝার আছে।



এই সমাজ যেই পরিমাণ পাপ-পঙ্কিলতায় ভরে গেছে, আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন যে এখনও আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছেন না, এটাই আমাদের জন্য সবচে বড়ো নেয়ামতআমাদেরকে একেবারে ধ্বংস না করে দেওয়ার কারণ হচ্ছে, রাসুলে আরাবির  () কাছে আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন ওয়াদা করেছেন, পূর্বেকার জমানার নবীর উম্মতদের মত আমাদেরকে একেবারে ধ্বংস করে দেবেন না। তবে একেবারেই যে কিছু করবেন না, সেটা কিন্তু বলেননি। ছোটো ছোটো শাস্তি দিয়ে আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন মাঝেই মাঝেই আমাদের সতর্ক করে দেবেন, এবং সেটা দিচ্ছেনও।

 

তবে এবারের সতর্কবার্তাটা কিন্তু একেবারেই ছোট নয়। মহামারি করোনার কথা বলছি। কাছাকাছি অতীতে সমগ্র মানবজাতির জন্য এত বড়ো বিপর্যয় এর আগে আসেনি। সামান্য এক আণুবীক্ষণিক ভাইরাস দিয়ে আল্লাহ্‌ সারা দুনিয়ার মানুষকে কেমন অবস্থায় ফেলেছে তা আর আশা করি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হবে না। সমগ্র বিশ্বের বিজ্ঞানীরা মিলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি। একদিন হয়তো এর প্রতিষেধক চলে আসবে, কিন্তু ততোদিনে মানুষের বুঝে যাওয়া উচিৎ যে মানুষ চাইলেও তার ইচ্ছেমতো সব করতে পারে না।

 

বাংলাদেশেতো করোনা প্রায় চলেই গিয়েছিলো, আমরাও একটু হাফ ছেড়ে বাঁচার প্রয়াস পাচ্ছিলাম। কিন্তু যেইমাত্র না আমরা ভেবেছি এইবার বুঝি মুক্তি পেতে যাচ্ছি, ঠিক তখনই এর দ্বিতীয় আঘাত। এবং এবারের আঘাত নিঃসন্দেহে আগেরবারের চেয়ে মারাত্মক।

 

 

আমাদের চোখের সামনে আরো অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে, আমরা হয়তো বুঝতে পারছি না। কিছুদিন আগে নেত্রকোনায় এক লু হাওয়ায় কৃষকদের হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমরা ভাবছি এটা বুঝি এমনি এমনি হচ্ছে? এইযে পবিত্র রমজান মাসের আজকে আট দিন। কোথায় একটু শান্তির বৃষ্টি হওয়ার কথা, কিন্তু দিন দিন গরম বেড়েই চলেছে। আমরা এরপরেও ভাবছি এসব স্বাভাবিক?  একটুও চিন্তা করছি না! কেন? মানুষতো চিন্তা করলেই অনেক কিছু বুঝার কথা। এর জন্য দরকার একটু চোখ কান খোলা রাখা। নবীজির () এর শেষ জমানার নিয়ে হাদিসগুলো একটু ঘাটাঘাটি করা, কেয়ামতের আলামতসমূহের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা।

 

আমরা পাপে এমনভাবে নিমজ্জিত যে আজকাল এসব কেউ বললে তাঁকে নিয়ে আমরা বরং হাসাহাসি করি। এমনভাবে তাচ্ছিল্য এবং অবজ্ঞার দৃষ্টি নিক্ষেপ করি, মনে হয় এক আজব প্রাণি কিছু বলছে। অথচ মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ছিলো এসব ব্যাপারে ঠিকমতো চিন্তা করা। চিন্তা না করলে, আখিরাত নিয়ে ভয় না থাকলে, নবীজির () করা ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে একবারে গাফেল হলে, এবং সর্বোপরি এসব নিদর্শন সামনে আসার পরেও সতর্ক না হলে, সামনের দিনের ভয়াবহ ভোগান্তির হাত থেকে নিস্তার পাওয়াটা আমাদের জন্য কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। আমাদের পাপের কারণে আল্লাহ্‌ যদি সব নেয়ামত উঠিয়ে নেন, তাহলে আমরা কোথায় যাবো, কে সাহায্য করবে আমাদের?

 

বলুন, “তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দেবে”?

_সূরা মূলক: ৩০

 

বলুন, “তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি আল্লাহ্‌ রাতকে তোমাদের উপর কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোনো ইলাহ আছে কি যে তোমাদের আলো এনে দেবে? তবু কি তোমরা শুনবে না? বলুন, “তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি আল্লাহ্‌ দিনকে তোমাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোনো ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের রাত এনে দেবে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে? তবুওও কি তোমরা ভেবে দেখবে না”?

_সূরা কাসাস: ৭১-৭২

 

আল্লাহ্‌র স্পষ্ট এসব কথা থেকে মুমিনরা অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করবে। কিন্তু হতভাগারা এরপরেও এসব স্পষ্ট বার্তা থেকে এবং সব নিদর্শন দেখেও মুখ ফিরিয়ে নেবে। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের এসব ভয়াবহ আজাব থেকে রক্ষা করেন। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের ধ্বংস করে না দেন। আমিন।

Post a Comment

0 Comments