আমাদের কী করার কথা ছিলো, আমরা কী করছি ? ২

Photo by Ahmed Aqtai from Pexels


পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই নিজেকে ভালো হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। সেটাতে অবশ্য কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা দাঁড়িয়ে যায় কমিউনিটি বেইজড ভালো দেখানোর প্রবণতায়। মানুষ যে যেমনই হোক, সে যখন যেই কমিউনিটিতে বিলং করে তখন তার সব ধরনের প্রয়াস থাকে যে পৃথিবীতে তার নিজস্ব কমিউনিটিই শ্রেষ্ঠ, মানবিক, স্বার্থহীন, পরোপকারী, এবং ইত্যাদি সেটা প্রমাণ করা। আসলে কমিউনিটি দিয়ে কি মানুষকে জাজ করা সম্ভব? মানুষ ভালো কি মন্দ সেটার একটা মানদণ্ড আছে। সেই মানদণ্ডের সকল ক্রাইটেরিয়া যদি কেউ পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে কমিউনিটি দিয়ে মানুষের ভালো মন্দ বিচার করা সম্ভব নয়।


উদাহরণ টানা যাক কিছু। 


ডাক্তার সমাজ মনে করে পৃথিবীতে তাঁরাই সবচে ভালো, তাঁরা সরাসরি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। এটা অবশ্যই ঠিক। কিন্তু ডাক্তার কমিউনিটিতে যদি খারাপ ডাক্তার থাকে, যিনি ডাক্তারির মূলমন্ত্র ভুলে গিয়ে এর বিপরীত কাজ করেন, সেক্ষেত্রে কি ডাক্তারি পেশার দোহাই দিয়ে সেই মানুষটাকে খারাপ বলা যাবে না?


পুলিশের কাজ জনগণের সেবা করা। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারযন্ত্রকে সাহায্য করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার না করে মানুষের সেবা দেওয়া, অস্ত্রের সঠিক প্রয়োগ করা। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে যদি একজন পুলিশ সদস্য তার উল্টোটা করে, তবে কি পুলিশ কমিউনিটির আদর্শের দোহাই দিয়ে তাকে পাপহীন বলার সুযোগ থাকে? 


শিক্ষকগণ সমাজের দর্পন। তাঁদের কাজ ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষা দেওয়া, ছাত্রদের মাঝে নৈতিকতা গড়ে তোলা, দেশের মেরুদণ্ডের ভীত গড়ে দেওয়া। কিন্তু শিক্ষক যদি হয় পরিমলের মত, যেখানে তাঁর ছাত্রীদের ইজ্জত রক্ষিত না? শিক্ষক যদি হয় পা চাটা আর দালাল, সেখানে শিক্ষকতার মহান পেশার দোহাই দিয়ে কি সেই শিক্ষককে মহান বলার সুযোগ থাকে? 


তেমনি করে প্রতিটা সেক্টরের উদাহরণ টানা যায়। শ্রমিক থেকে শিল্পপতি, জনগণ থেকে সরকার, প্রতিটি সেক্টরের উদ্দেশ্যইতো মহৎ। কিন্তু প্রতিটা সেক্টরের দায়িত্ব পালন করে কে? আমরা মানুষরাইতো! কমিউনিটির তো নিজ থেকে ভালো বা মন্দ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, যদি সেই কমিউনিটির মানুষ ভালো বা মন্দ না হয়। ব্যক্তিগতভাবে একজন মানুষের নৈতিকতা, বিবেকবোধ, ব্যক্তিত্বের প্রসারতা, সুশিক্ষা, অন্তরের কোমলতা না থাকলে, সেই মানুষটা যেকোনো সেক্টরের দায়িত্বেই যাক, সে সেটাকে খারাপের শেষ বানিয়ে ছাড়বে। 


আমাদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত যে, আমার কমিউনিটি সেরা। আমাদের চিন্তা হওয়া উচিত যে, আমার কমিউনিটিতে কেউ অন্যায় করলে তাকে ডিফেন্ড করার জন্য ভালোকে খারাপ, আর খারাপকে ভালো বানিয়ে দেওয়া যাবে না। আর এমন করতে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে নিজের ভেতরের নৈতিকতা আর বিবেকবোধকে জলাঞ্জলি দেওয়া। আমার আপনজন খারাপ হলে তার খারাপটা তাকে দেখিয়ে দিয়ে শোধরাতে বলা উচিত। সেইজন্য তাকে পরামর্শ দেওয়া উচিত, তাকে পথ দেখানো উচিত। কিন্তু নিজের এলিটিজম আর নেপোটিজমের পরাকাষ্ঠা দেখাতে যেয়ে কালোকে সাদা, আর সাদাকে কালো বলা উচিত নয়। কমিউনিটি দিয়ে নয়, ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দের মানদণ্ডে বিচার করতে হবে।


মানুষ যেদিন ভালোর মানদণ্ডে ভালো হয়ে যাবে, যেদিন তাঁর নৈতিকতা, বিবেকবোধ, সুশিক্ষা, আর তাক্বওয়া তাকে সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে, সেদিন প্রতিটা কমিউনিটিই তাদের নিজেদের জায়গা থেকে সেরা হয়ে উঠবে। এজন্য ধর্মীয় শিক্ষা, আল্লাহ'র প্রতি ভালোবাসা ও ভয়ের কোনো বিকল্প নেই। 


Post a Comment

0 Comments