আসমানের চাঁন-কন্যা।


Photo by Fotograf Botez from Pexels


আমাকে আজ আরশের মালিক একটি কন্যা সন্তান দান করেছেন। আমার প্রথম সন্তান। আজ তারিখটা গ্র‍্যাগরিয়ান সময় হিসেবে ২৯ এপ্রিল ২০২১, এবং হিজরি সন হিসেবে ১৭ রমাদান ১৪৪২। সে যখন এলো, সময়টা সম্ভবত রাত ন'টা বা তার আশেপাশে হবে। খবর শুনে আমি তাড়াতাড়ি আমার স্ত্রীর বাবার বাসায় গেলাম। গিয়েই আমার মেয়েটাকে কোলে নিলাম। আমি আমার সন্তানের চোখে প্রবল মায়ার খেলা লক্ষ করেছিলাম ঐ সময়টাতে। ওকে যখন কোলে নিই, আমার স্বত্বা আমার ভেতর থেকে প্রবলবেগে চিৎকার করছিলো। বলছিলো, "দেখ, তোরই আরেকটা অংশ আজ তোর কন্যা হয়ে এসেছে। ওর চোখ দুটো দেখেছিস? কেমন গভীর, কালো! এক সমুদ্র মায়াতে ভরা। কেমন সুদর্শনী!" মেয়েটাও যেন বলছিলো, "এই বাবা, দেখেছো আমি কতো সুন্দর? মাত্রইতো বেহেশত থেকে আসলাম। তোমার রব খুশি হয়ে তোমার জন্য আমাকে উপহারসরূপ পাঠিয়েছেন, ঠিকঠাক আগলে রেখো কিন্তু, নাহয় তোমার খবর আছে"।  


আমি ওর নাম দিয়েছি জয়নব। জয়নব মানে সুদর্শনী। নামটা ওর সাথে কেমন যে মানিয়ে গেছে! আমার স্ত্রী তাকে গত প্রায় দশটা মাস ধরে পরম মমতায় তাঁর গর্ভে রেখেছিলো। আসমানের মালিক কতোই না কৌশল করে জয়নবকে বড়ো করে তুলেছে তার মায়ের গর্ভে! তিনি তাঁর গোলামের প্রতি প্রচণ্ড খুশি হলেই না কি কন্যা সন্তান দান করেন। আমার মতো পাপীকেও তিনি এমন অমূল্য রত্ন দেবেন সেটা কি আমি ভাবতে পেরেছিলাম! রত্ন, যেন একটা দামি হীরকখন্ড! কী অপরূপ এই কন্যাটা! 


আইছো কইন্যা বেহেশত থাইকা পরীর রূপে নাইম্মা গো,

তোমার রূপে আসমানের চাঁন, আলো গেছে কইম্মা গো। 

কী বাহে আজ শোকর জানাই আমার মালিক রব্বানায়?

বাঁইচ্চা থাকুক কইন্যা আমার, আমার হৃদয় আঙিনায়। 

Post a Comment

0 Comments